জসিম উদ্দিন:

চা খাওয়ার ফাঁকে একটি কল আসলো তার মোবাইলে, লাউডে দিলেন। শুনলাম এরশাদ সাহেবের কন্ঠ, সাহেদ এমন ভান করলেন আমেরিকার প্রধান থেকে বাংলাদেশ প্রধান তার হাতের মুঠোয়। একটু পর কথা বললেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন সাহেব ও খালেদা জিয়ার সাথে। মোবাইলের লাউডে তাও শুনলাম অবিকল কন্ঠ। আমাকে বললেন,আপনিতো আওয়ামীলীগ করেন,আপনাকে মোবাইলে মান্যবর প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলিয়ে দিই। আপনার সবকাজ সম্পাদন হবে। প্রতারক সাহেদের প্রতারণার কথা এভাবেই বর্ণনা করছিলেন চট্টগ্রামের জ্বালানি তেলের ডিলার নাজনীন সরওয়ার কাবেরী।

কারসাজির মাধ্যমে অবিকল গলার কন্ঠ শুনিয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে জাহির করে অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। টিভি টকশো’র বদৌলতে হঠাৎ বুদ্ধিজীবী বনে যাওয়া মো. সাহেদ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। তার প্রতারণামূলক বুদ্ধির খেলায় মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা, আমলা, সাংবাদিক, আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী সবাই কপোকাত।

অভিযোগ উঠেছে প্রতারক সাহেদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি,মন্ত্রী ও আমলাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে তার প্রতারণায় ধরা না দিলেও কেউ,কেউ না বুঝে পা বাড়িয়েছেন প্রতারক সাহেদের প্রতারণার জালে। ২০০৯ সালে নানান কৌশলে মো.সাহেদ প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে চেয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজরীন সরওয়ার কাবেরীকেও।

কাবেরী জানান, ২০০৯ সালে সাহেদ ইফতিখার পরিচয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে আলোচনা করতে। একাধিকবার অনুরোধের কারনে অন্যদের মত একটি অভিজাত হোটেলে তিনিও বৈঠক করেন প্রতারক সাহেদের সঙ্গে। ওইসময় সাহেদ তাকে বিভিন্ন দেশ থেকে আরও বেশি জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব দেন এবং সহজে লাইসেন্স পাইয়ে দিবেন জানিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন।

এভাবে চট্রগ্রামের অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেন কাবেরী। কাবেরীর দেয়া তথ্যমতে বাংলাদেশের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও ব্যক্তিবর্গের নকল সিল সাক্ষর জালিয়াতি করে এক্সপোর্ট ইমপোর্টের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র ও ছাড়পত্র ব্যবসায়ীদেরকে দিয়ে চট্রগ্রাম থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইফতেখার নামধারী প্রতারক সাহেদ। জানা যায়, লাইসেন্স দেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন কাবেরীকে ১ কোটি টাকা অগ্রীম দেয়ার জন্য ফোনে বিরুক্ত করেছিল সাহেদ। তিনমাস পর্যন্ত কাবেরীর পেছনে লোক লাগিয়ে রেখেছিল এই প্রতারক।

এতোদিন কেন এইধরনের অভিযোগ করেননি কাবেরী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাহেদ টকশো ও রাজনৈতিকভাবে যে অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে লোকে পাগল বলতো। তবে এখন তিনিও সাহেদের শাস্তি দাবি করছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে মুঠোফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যে মানুষ এই দুর্যোগে অসহায় রোগিদের সাথে প্রতারণা করতে পারেন, সে সবই পারে। তার জন্য ভিআইপি বা সাধারণ বলতে কিছু নেই। এখন তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের তদন্ত চলছে, নতুন নতুন আরো তথ্য আসতেছে। আমি বলব যে সব ব্যবসায়ী বা যারাই প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন সবাই মামলা করেন। এসময় মন্ত্রী, যেকোন মুহূর্তে সাহেদ গ্রেফতার হতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

  • 134
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    134
    Shares
  •  
    134
    Shares
  • 134
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here