মুস্তাফিজুর রহমান:

নাম পরিচয় জালিয়াতি করে ২২ বছর ধরে কারারক্ষীর হিসেবে কারা বিভাগে চাকরী করছেন রফিকুল ইসলাম মনির। পেয়েছেন পদন্নোতিও। নাম ঠিকানা সব কিছু ঠিক থাকলেও মনির হোসেনের স্থলে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম মনির প্রায় দুই যুগ ধরে চাকরি ও সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালের মে মাসে অস্থায়ী ভিত্তিতে লক্ষীপুরের মনির হোসেনকে কারারক্ষী পদে নিয়োগ দেয় কারা বিভাগ। তবে ছবি পরির্বতন করে যোগ দিয়েছেন কুমিল্লার রফিকুল ইসলাম মনির।

পরিচয় গোপন রেখে কারা বিভাগে কর্মরত রফিকুল ইসলাম মনির ওরফে মনির হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে সম্পূর্ণরূপে ভূয়া কারারক্ষী হিসেবে র্কমরত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মনিরের নামে ভুক্তভুগী মনির হোসেনের নাম উল্লেখ করে ডাক বিভাগের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো হয়। অভিযোগের একটি কপি আসে জাগরণ বাংলার হাতে।

ওই অভিযোগে জানানো হয়,রফিকুল ইসলাম মনির ১৯৯১ সালে মুর্শিদাবাদ থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং ১৯৯৮ সালে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন কারসাজি করে  লক্ষীপুর জেলার মনির হোসেনের নাম ব্যবহার করে চাকুরীতে ভর্তি হন।

ওই অভিযোগ পত্রে আরও জানানো হয়, রফিকুল ইসলাম মনির ভুয়া ঠিকানায় যোগদানসহ বর্তমানে বহু অনৈতিক  কর্মকান্ডে লিপ্ত আছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষীপুর জেলার সদর থানাধীন লাহারকান্দি গ্রামের নুরুন্নবীর ছেলে মো.মনির হোসেনকে ১৯৯৮ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে ২১৬৪৫ কারারক্ষীর বিভাগীয় নম্বর দিয়ে চাকরিতে যোগদান দেয়ার অনুমতি পান। কিন্তু তার স্থলে বর্তমানে কর্মরত কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম মনির ।

এর সত্যতা জানতে গেলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগোরে একই কর্মস্থলে রফিকুল ইসলাম মনির ও তার ছেলে নাঈমুর রহমানও র্কমরত আছেন। নাঈমুর রহমানের সার্ভিসবুকসহ অন্যান্য কাগজপত্রে দেখা যায় , বাবা রফিকুল ইসলাম মনির এবং তার চারিত্রিক সনদে কুমিল্লা জেলা ,বুড়িচং থানা এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের কথা উল্লেখ রয়েছে। ৮নং ভারেল্লা (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চারিত্রিক সনদও প্রদান করে তার কর্মস্থলে।

এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুরের ইউপি সদস্য সেলিম মোল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ত্রিশ পয়ত্রিশ বছর আগে রফিকুল ইসলাম মনির আমাদের এখানে বাড়ি ঘর করেছে। রফিক আমার সমবয়সী। সে এবং তার ছেলে কারাগারে চাকরী করে। রফিকুল ইসলাম মনিরের বাবার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বাবার নাম আমরা সামশুল হক নামে জানি।কিন্তু এখন কাগজপত্রে দেখছি সামশুল হক ওরফে নুরুন্নবী।

এই ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মনিরের সাথে মুটোফোনে কয়েকদিন যাবৎ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে মনির কারা অভ্যন্তরে অবস্থান করায় তার সাথে দেখা করাও সম্ভব হয়নি। তার ছেলে নাঈমুর রহমানের সাথে যোগযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, সার্ভিসবুকে তার বাবার সংক্ষিপ্ত ডাক নাম ব্যবহার করেছেন। এরপরেই ব্যস্ত আছে বলে তৎক্ষনাত ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কারারক্ষী জাগরণ বাংলাকে বলেন, ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে রফিকুল ইসলাম মনির কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত আছেন। এখানে সবাই তাকে মনির হোসেন নামে চিনে। পদোন্নতি পেয়ে এখন ‘নায়ক’ হিসেবে র্কমরত আছেন। এছাড়া বিভিন্ন অপর্কমে লিপ্ত থাকলেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকায় কেউ ভয়ে মুখ খুলছেনা।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি প্রিজন (চট্টগ্রাম) এ.কে.এম. ফজলুল হক জাগরণ বাংলাকে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জেল সুপারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার কামাল হোসেন জাগরণ বাংলাকে বলেন, এই ধরনের কোনো নির্দেশনা এখনও পাইনি। তদন্ত করতে দিলে আমি তদন্ত করবো। এর বাইরে আমার কোনো এখতিয়ার নেই।

তবে এই ধরনের পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত  থাকাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অবঃ) এমদাদুল ইসলাম। তিনি জাগরণ বাংলাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে যেহেতু অভিযোগ এসেছে খুব দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কারা অভ্যন্তরে যেখনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ এই ব্যক্তির দ্বারা করা যাবে । কারণ তার কোনো দায়-দায়িত্ব থাকবেনা।

  • 2.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2.4K
    Shares
  •  
    2.4K
    Shares
  • 2.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here